ইউটিউব, স্পটিফাই বা অন্য কোনো মাধ্যমে গান শুনতে শুনতে হঠাৎ বেজে উঠতে পারে ‘নদী’! যুক্তরাজ্য প্রবাসী শিরিন জাওয়াদের গুটিকয়েক মৌলিক গানের অন্যতম এটি। ১৮ বছর আগে গানটি রিলিজ হয়। ওই সময়ে শিরিনের গানে অভ্যস্ত কান এমনও অনুমান করতে পারে যে নিখুঁত গায়কী ও আবেগের ব্যবহারের জন্য ‘নদী’ পর্যন্ত পৌঁছাতে মোটামুটি একটা সাংগীতিক জার্নির মধ্যে গেছেন তিনি। বাংলার বিভিন্ন ধারার সাধকের গীতিকবিতার চর্চা তিনি করেছেন, তার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে এ গান।
গানটি লিখেছিলেন সাকী আহমেদ। কম্পোজিশন করেছেন ফুয়াদ আল মোক্তাদির। শিরিনের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘মাতওয়ালী’তে (২০০৯) স্থান পেয়েছে এটি। ব্যতিক্রমহীনভাবে ‘নদী’ ছাড়া অ্যালবামের প্রায় সব গানই বাংলার মহাজনদের গীতের রিমেক। তার মাঝে আলোচ্য গানটির সাবলীলতা ও দরদের উৎস খুঁজতে গেলে আরেকটু আগে যেতে হবে।
শিরিনের ডেবিউ অ্যালবাম ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’। প্রকাশ হয় ২০০৭ সালে। এডিশনাল ট্র্যাক (হাবিব ওয়াহিদ ও ন্যানসির ‘হৃদয়ের কথা’) বাদ দিলে অ্যালবামের সবকটিই গান ছিল রিমেক। বৃহৎ শ্রোতা পরিসরে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে শিরিনকে পরিচিতি এনে দেয় অ্যালবামটি। এরপরই ফুয়াদ আল মোক্তাদিরের সঙ্গে করেন ‘মাতোয়ালি’।
ট্রেন্ডি ভঙ্গিতে বললে, ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’ ফোক-ফিউশনধর্মী সংকলন। ফোক শব্দটার মধ্যে যে ধরনের ধারণার আরোপ ও সমন্বয় ঘটে; তাতে আলাদা করে ফিউশনকে টানার দরকার পড়ে না। ফোক নিজেই ফিউশন। এক অর্থে এ শতকের শুরুতে ঢাকার গান-বাজনায় যে বাঁকবদল, সেখানে আসলে কী কী হচ্ছিল, ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’ তার অন্যতম উদাহরণ। অবশ্যই সফল উদাহরণ।
