রিলস স্ক্রল করলে বুঝতেই পারি না কখন থাম্ব থমথম করে, আর চোখ আটকে যায় অটো-টিউন দিয়ে ভরা ভোজপুরি হিটে। কয়েক সপ্তাহ আগেও ভোজপুরি হঠাৎ পার্টির প্রাণ হয়ে উঠল। সবসময় ডাবল মিনিং আর ‘নট সো ক্লাসি’ ট্যাগ খাওয়া ভোজপুরি গান হঠাৎ কিভাবে হিট হয়ে গেল? এই লেখায় বোঝার চেষ্টা করবো কিভাবে ভোজপুরি গান হয়ে গেলো ভাইরাল আর কিভাবে ভোজপুরি ক্রেজ আমাদের না চাইতেও নাচিয়ে দিল।
আচ্ছা, আপনাদের কি কখনো এমন হয়েছে, কোনো গান হঠাৎ মাথায় ঢুকে গেছে আর বেরোয় না?
গিল্টি অ্যাজ চার্জড। এমন ঘটনা আমার সাথে ঘটেছে। আমার ও আমার বন্ধু ইভার সাথে হওয়া একটা ঘটনা বলি। ঘটনার শুরু একটি ঝগড়া দিয়ে। একে অপরের সঙ্গে কথা বন্ধ; পুরো গরম অবস্থা। পরদিন ইভা ফোন করে, কাঁদতে কাঁদতে ‘স্যরি’ বললো। আর তারপর… হঠাৎ ঘটে গেল। একজন স্বাভাবিক মানুষ এই সময়ে কী করবে? নিজে কাঁদবে নাহলে বান্ধবীর কান্না থামানোর চেষ্টা করবে। আমি কী করেছি, বলেন তো!
ও যেই মুহূর্তে ‘স্যরি’ বলল, আমার মাথায় খেলে গেলো একটি গান:
‘সরি সরি কাহা তারু
ববি দেহ মেহ ছুঁয়া কে
জান লেবু কা এহ জান
জিয়াতে মুয়া কে’
একটি ভোজপুরি গান। আমি আগে রিলস-এ দেখেছি। এই গানের অর্থও আমি জানি না। আর এতো দেখেছি যে কি বলবো, থাক!
তো, গল্পে ফিরি। ইমোশনাল ক্রাইসিসের মধ্যেই, আমি শুরু করলাম গানটা গাওয়া; যেন আমি কোনো সার্টিফায়েড ভোজপুরি পপ স্টার। আমার ফ্রেন্ড কাঁদে আর স্যরি বলে আর আমি বলি ‘ববি দেহ মেহ ছুঁয়া কে’। ইভা এক পর্যায়ে হাসতে শুরু করল। এরপর আমিও হাসতে শুরু করলাম। যাক ঝগড়াটা মিটলো!
এখনো, যখন রিলগুলো দেখি, আমি হাসতে আর নাচতে বাধ্য হই। এই দেখা যায় বাপ-ছেলে নাচে, আবার দেখা যায় অরুণাচল প্রদেশের কেউ নাচে। অবিশ্বাস্য হলেও কতো সহজে কয়েকটা অজানা শব্দ আর এক ঝাঁক বিট আমাদের মাথা দখল করে নিতে পারে, হাসি ফোটাতে পারে, আর ইমোশনাল স্পেসকে এক মিনি ড্যান্স পার্টিতে রূপান্তরিত করতে পারে।
ভোজপুরি গানের ‘রিল ওয়েভ’ কিন্তু কোনো ক্লাসিক ফোক গান দিয়ে আসেনি, বরং শুরু হল একটা ডান্স ট্রেন্ড দিয়ে। সেই ভাইরাল রিল ছিল ‘সাজ কে সওয়ার কে ’–পাওয়ান সিং ও খেসারি লাল ইয়াদাভের হুক স্টেপ দিয়ে। আপনারাও দেখেছেন নিশ্চয়ই; দুটো সাদা টিশার্ট পড়া লোক সাপের মতো নাচছে?
